কেওয়াইসি ও এএমএল নীতি
TrueLedgency কীভাবে গ্রাহকের পরিচয় যাচাই করে, অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে কী ব্যবস্থা নেয় এবং এতে আপনার ভূমিকা কী, তা এই নীতিতে ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
১. ভূমিকা
কেওয়াইসি (আপনার গ্রাহককে জানুন) এবং এএমএল (অর্থ পাচার প্রতিরোধ) হলো এমন কিছু পদ্ধতি যার মাধ্যমে একটি আর্থিক প্ল্যাটফর্ম নিশ্চিত হয় যে তার গ্রাহক প্রকৃতপক্ষে কে এবং তার অর্থ বৈধ উৎস থেকে এসেছে। এর সঙ্গে সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধও (সিএফটি) যুক্ত। TrueLedgency এই পদ্ধতিগুলো মেনে চলে যাতে প্ল্যাটফর্মটি অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত না হয় এবং সকল ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট নিরাপদ থাকে।
২. কেওয়াইসি কী
কেওয়াইসি হলো গ্রাহকের পরিচয় শনাক্ত করা এবং তিনি যে তথ্য দিয়েছেন তা সত্য কি না যাচাই করা। এতে নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা এবং সরকারি পরিচয়পত্রের মতো তথ্য মিলিয়ে দেখা হয়। একবার যাচাই সম্পন্ন হলে এই তথ্য আপনার অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে এবং পরবর্তী পরিবর্তনের সময় আবার মিলিয়ে নেওয়া হয়।
৩. এএমএল কী
এএমএল হলো অবৈধ উৎসের অর্থকে বৈধ দেখানোর চেষ্টা আটকানোর ব্যবস্থা। এর অংশ হিসেবে আমরা প্রতিটি গ্রাহকের ঝুঁকি মূল্যায়ন করি, লেনদেনের ধরন পর্যবেক্ষণ করি এবং অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক কার্যক্রম চিহ্নিত হলে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাই। এ জন্য বাংলাদেশের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও বিএফআইইউ-এর প্রযোজ্য নির্দেশনা বিবেচনায় নেওয়া হয়।
৪. কেন পরিচয় যাচাই করা হয়
যাচাইয়ের প্রথম কারণ প্রতারণা প্রতিরোধ: অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যাতে অ্যাকাউন্ট খুলতে না পারে। দ্বিতীয়ত, এটি আপনার অ্যাকাউন্টের সুরক্ষা, কারণ যাচাইকৃত অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত উত্তোলন করা কঠিন। তৃতীয়ত, আমাদের ওপর প্রযোজ্য আইনি ও নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ এবং আর্থিক ঝুঁকি কমানো এর উদ্দেশ্য।
৫. প্রয়োজনীয় নথি
সাধারণত আমরা নিচের নথি চাই। আমরা শুধু প্রয়োজনীয় নথিই চাই এবং যেগুলো ব্যবহার করি না, সেগুলো চাই না।
- পরিচয়ের প্রমাণ: জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট অথবা ড্রাইভিং লাইসেন্সের স্পষ্ট ছবি।
- ঠিকানার প্রমাণ: গত তিন মাসের মধ্যে ইস্যু করা ইউটিলিটি বিল বা ব্যাংক বিবরণী, যেখানে আপনার নাম ও ঠিকানা আছে।
- সেলফি যাচাই: আপনার মুখ নথির ছবির সঙ্গে মিলছে কি না দেখতে একটি লাইভ সেলফি।
ছবি তোলার সময় চারটি কোণ দৃশ্যমান রাখুন, আলো পর্যাপ্ত রাখুন এবং ফ্ল্যাশের প্রতিফলন এড়িয়ে চলুন। নথির কোনো অংশ ঢেকে রাখা বা সম্পাদনা করা হলে সেটি গ্রহণযোগ্য হয় না। পাসপোর্ট হলে ছবি ও পরিচয়ের পাতা দুটোই দিতে হবে।
৬. যাচাইয়ের প্রক্রিয়া
প্রক্রিয়াটি পাঁচটি ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথমে আপনি অ্যাকাউন্ট খোলেন। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য ও নথি জমা দেন। তারপর স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা নথির স্পষ্টতা, মেয়াদ ও তথ্যের সামঞ্জস্য যাচাই করে। কোনো সন্দেহ থাকলে আমাদের কমপ্লায়েন্স দলের একজন সদস্য নিজে পর্যালোচনা করেন। সবশেষে আপনাকে যাচাইয়ের ফলাফল ইমেইলে জানানো হয়।
- নিবন্ধন: নাম, ইমেইল ও মোবাইল নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি হয় এবং ব্যক্তিগত ম্যানেজার যোগাযোগ করেন।
- তথ্য ও নথি জমা: ম্যানেজারের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচয় ও ঠিকানার নথি আপলোড করুন।
- স্বয়ংক্রিয় যাচাই: সিস্টেম নথির ফরম্যাট, মেয়াদ এবং আপনার দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মিল পরীক্ষা করে।
- ম্যানুয়াল পর্যালোচনা: স্বয়ংক্রিয় যাচাইয়ে অমীমাংসিত কিছু থাকলে একজন প্রশিক্ষিত কর্মী তা দেখেন।
- ফলাফল: অনুমোদন, অতিরিক্ত তথ্যের অনুরোধ অথবা প্রত্যাখ্যান, প্রতিটি ক্ষেত্রেই আপনাকে ইমেইলে জানানো হয়।
৭. অতিরিক্ত যাচাই
যদি আপনার লেনদেনের পরিমাণ অস্বাভাবিক হয় বা ঝুঁকি মূল্যায়নে উচ্চ ঝুঁকির সংকেত পাওয়া যায়, তাহলে আমরা বর্ধিত যাচাই (ইডিডি) করতে পারি। এতে অর্থের উৎস সম্পর্কে ব্যাখ্যা, আয়ের প্রমাণ বা অতিরিক্ত নথি চাওয়া হতে পারে। এই অনুরোধ কোনো অভিযোগ নয়, এটি একটি নিয়মিত সুরক্ষা ব্যবস্থা।
অতিরিক্ত যাচাইয়ের সময় আমরা সাধারণত অর্থের উৎস সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বিবরণ, চাকরি বা ব্যবসার প্রমাণ কিংবা ব্যাংক বিবরণী চাইতে পারি। আপনি যে তথ্য দেবেন তা শুধু এই যাচাইয়ের কাজেই ব্যবহৃত হয় এবং গোপনীয়তা নীতি অনুযায়ী সুরক্ষিত থাকে।
৮. যাচাইয়ের সময়
নথি স্পষ্ট ও সঠিক হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে যাচাই এক কর্মদিবসের মধ্যে সম্পন্ন হয়। সময় বাড়তে পারে যদি ছবি অস্পষ্ট হয়, নথির তথ্য আপনার নিবন্ধিত তথ্যের সঙ্গে না মেলে অথবা ম্যানুয়াল পর্যালোচনা বা অতিরিক্ত যাচাই প্রয়োজন হয়। আবেদনের সংখ্যা বেশি থাকলেও সময় প্রভাবিত হতে পারে।
বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে, যেমন কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিকভাবে পরিচিত পদে থাকলে বা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার তালিকায় নাম মিললে, আমাদের প্রযোজ্য নীতি অনুযায়ী অতিরিক্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। এই তালিকাগুলো প্রতিনিয়ত হালনাগাদ হয় এবং সব গ্রাহকের ক্ষেত্রেই সমানভাবে পরীক্ষা করা হয়।
৯. প্রত্যাখ্যান বা স্থগিতের কারণ
নিচের কারণে যাচাই প্রত্যাখ্যান বা স্থগিত হতে পারে।
- নথির মেয়াদ শেষ বা ছবি অস্পষ্ট ও অসম্পূর্ণ।
- দেওয়া তথ্য ও নথির তথ্যে অমিল।
- নথি জাল বা সম্পাদিত বলে সন্দেহ।
- চাওয়া তথ্য নির্ধারিত সময়ে না দেওয়া।
- একই ব্যক্তির একাধিক অ্যাকাউন্ট বা অন্যের পরিচয় ব্যবহারের ইঙ্গিত।
প্রত্যাখ্যানের সময় আমরা কারণ জানাই, যতটা আইনত জানানো সম্ভব, এবং সংশোধন করে আবার জমা দেওয়ার সুযোগ দিই।
১০. লেনদেন পর্যবেক্ষণ
অ্যাকাউন্ট সক্রিয় থাকার সময় আমরা লেনদেনের ধরন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করি। জমা ও উত্তোলনের হঠাৎ অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, একাধিক অ্যাকাউন্টে দ্রুত অর্থ সরানো বা পূর্বে ব্যবহৃত হয়নি এমন দেশ থেকে প্রবেশ ঝুঁকির সংকেত হিসেবে বিবেচিত হয়। সন্দেহজনক কার্যক্রম পেলে আমরা কিছু সুবিধা সাময়িকভাবে সীমিত করতে পারি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষকে জানাতে বাধ্য থাকি।
এই পর্যবেক্ষণ স্বয়ংক্রিয় নিয়ম ও মানুষের পর্যালোচনা উভয়ের সমন্বয়ে চলে। কোনো সংকেত পেলেই যে আপনি কোনো অন্যায় করেছেন তা ধরে নেওয়া হয় না। আমরা আগে আপনার কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাই এবং আপনার উত্তর বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিই। আইনের কারণে কিছু ক্ষেত্রে আপনাকে বিস্তারিত না-ও জানানো হতে পারে।
১১. ব্যবহারকারীর দায়িত্ব
আপনাকে সঠিক, হালনাগাদ ও খাঁটি তথ্য ও নথি দিতে হবে এবং কোনো তথ্য বদলালে দ্রুত আমাদের জানাতে হবে। ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা, অর্থ উত্তোলন আটকে রাখা এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
আপনি যদি ভিন্ন দেশে ভ্রমণ বা বসবাস করেন, আমাদের অবহিত করুন। এতে অ্যাকাউন্টে প্রবেশ ও লেনদেনের অস্বাভাবিকতা নিয়ে অকারণ প্রশ্ন ওঠা কমে। একইভাবে, নাম বা ঠিকানা পরিবর্তনের পর হালনাগাদ নথি জমা দিলে ভবিষ্যতের যাচাই সহজ হয়।
১২. তথ্য সংরক্ষণ ও সুরক্ষা
যাচাইয়ের তথ্য ও নথি এনক্রিপ্ট করে সংরক্ষণ করা হয় এবং শুধু অনুমোদিত কর্মীরা প্রয়োজনের ভিত্তিতে তা দেখতে পারেন। আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এই তথ্য রাখা হয়, এমনকি অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়ার পরেও। তথ্য কীভাবে ব্যবহৃত হয় সে বিষয়ে বিস্তারিত গোপনীয়তা নীতিতে আছে।
১৩. তথ্য প্রদান
প্রয়োজন হলে আমরা যাচাই সেবা প্রদানকারী, তথ্যপ্রযুক্তি সেবাদাতা, সংশ্লিষ্ট সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং আইনের নির্দেশ থাকলে নিয়ন্ত্রক ও সরকারি কর্তৃপক্ষকে তথ্য দিতে পারি। এই প্রতিটি পক্ষকে গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার শর্ত মানতে হয় এবং আমরা শুধু প্রয়োজনীয় অংশটুকুই প্রদান করি।
১৪. আইন ও নিয়ম মেনে চলা
TrueLedgency বাংলাদেশে প্রযোজ্য মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, সন্ত্রাস বিরোধী আইন এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রযোজ্য নির্দেশনার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এই নীতি পরিচালনা করে। কোন সংস্থার কোন শর্ত কীভাবে প্রযোজ্য তা লাইসেন্স ও নিয়ন্ত্রণ পাতায় বিস্তারিত আছে।
১৫. যোগাযোগ ও সহায়তা
কেওয়াইসি বা এএমএল সংক্রান্ত যে কোনো প্রশ্নে [email protected] ঠিকানায় লিখুন। বিষয়ের লাইনে "কেওয়াইসি" লিখলে আপনার ইমেইল সরাসরি কমপ্লায়েন্স দলের কাছে পৌঁছায়।
যাচাই শুরু করুন অ্যাকাউন্ট খুলে
ম্যানেজার আপনাকে নথি জমা দেওয়ার ধাপগুলো দেখিয়ে দেবেন।